Header Ads

কম্পিউটারে তথ্য-নির্দেশ বা কমান্ড

Standard of service Post e-center


ভুমিকা :

একবিংশ শতাব্দীর এই বিশ্বায়নের যুগে তথ্য ও প্রযুক্তির ব্যবহার সর্বত্র বিদ্যমান। বাংলাদেশে একটু দেরিতে হলেও এর ব্যবহার ব্যাপক ভাবে বিস্তৃতি লাভ করছে। একথা অনম্বীকার্য যে প্রযুক্তি ছাড়া গোটা পৃথিবীই আজ অচল।গবেষণা থেকে শুরু করে, ব্যবসা, শিক্ষা, কৃষি, চিকিৎসাসহ ঘরে-বাইরে, মহাকাশে, মহাসমুদ্রে সকল ক্ষেত্রেই আজ প্রযুক্তির ছোঁয়া। প্রযুক্তির ব্যবহার ছাড়া আজকের পৃথিবীতে কোন কিছুই কল্পনা করা যায় না। তাই প্রযুক্তি সম্পর্কে আমাদের প্রত্যেকেরই সাম্যক জ্ঞান থাকা একান্ত আবশ্যক।
বাংলাদেশের সর্বত্র তথা- ব্যবসায়, শিক্ষা, কৃষি, উন্নয়নমূলক, সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মকান্ডসহ সকল কর্মক্ষেত্রে তথ্য-প্রযুক্তির ব্যবহারের লক্ষ্যে সরকার বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেছেন।মোট কথা বাংলাদেশকে একটি তথ্য-প্রযুক্তিতে সম্বৃদ্ধশালী ডিজিটাল বাংলাদেশ হিসেবে দেখতে চায় এ দেশের সরকার ও জনগন।এলক্ষ্যে প্রযুক্তির উন্নয়নে নিরলস কাজ করে চলেছে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও দপ্তরগুলো।পাশাপাশি এদেশের জনগোষ্ঠীকে তথ্য ও প্রযুক্তিতে দক্ষ করে গড়ে তুলতে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহন করেছে সরকার।শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে তথ্য ও প্রযুক্তি নামের একটি বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।যাতে করে কমলমতি শিক্ষার্থীরাও তথ্য প্রযুক্তিতে সাম্যক জ্ঞান অর্জন করতে পারে এবং প্রযুক্তির ব্যবহার শিক্ষতে পারে।এছাড়াও দেশের বিভিন্ন স্থানে বেসরকারিভাবে কারিগরি শিক্ষাবোর্ডের অনুমোদনে ও পরিচালনায় গড়ে উঠেছে তথ্য প্রযুক্তিসহ বিভিন্ন বিষয়ের উপর বেসিক শিক্ষা গ্রহনের জন্য প্রশিক্ষণকেন্দ্র।ব্যক্তি উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত এসব বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীর সংখ্যাও কম নয়।এছাড়াও অনলাইনে এসব শিক্ষাগ্রহণের সুযোগ তো রয়েছেই। ফলে এটা নিঃসন্ধেহে বলা যায় বাংলাদেশের ঘরে ঘরে একদিন প্রযুক্তিবিদের ছড়াছড়ি হবে। দেশের সর্বস্তরের মানুষ প্রযুক্তি ব্যবহারে পাদরর্শি না হলেও নুন্যতম ব্যবহার না জানলে দেশের তথ্য প্রযুক্তির উন্নয়ন হবে কি করে? আর এপথে কিছুটা অন্তরায় হলেও সেটা হলো ভাষা।
প্রযুক্তির ব্যবহার শিখবার জন্য বাংলা ভাষায় খুব কমই সহযোগিতা পাওয়া যায়। তাই বাংলা ভাষা-ভাষীদের জন্য তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার শিক্ষার উপর ছোট্ট ছোট্ট কয়েকটি নিবন্ধ প্রকাশের চেষ্টা করেছি মাত্র।আমার এ ক্ষুদ্র প্রয়াস শুধু তাদের জন্য যারা তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার শিখতে চান, যারা শিখছেন, ভবিষ্যতে যারা শিখবেন, নতুন শিখেছেন এবং কাজ করতে চান। তাছাড়া যারা শেখাচ্ছেন তাদেরও হয়তোবা কোন কোন কাজে আসতে পারে। যাহোক আর এ প্রসঙ্গ নয়, এবার ফিরে যাব মূল প্রসঙ্গে।

তথ্য ও প্রযুক্তির পরিচয়ঃ

প্রথমেই আমাদের জানতে হবে তথ্য-প্রযুক্তি কি? তথ্য-প্রযুক্তি এক সাথে ব্যবহার হলেও শাব্দিক অর্থে বেশ পার্থক্য বিদ্যমান। তথ্য হলো ডাটা বা উপাত্ত, যা আমাদের প্রযুক্তির উপকরণ। আর প্রযুক্তি হলো বিজ্ঞানের শেষ্ঠতম ও বিষ্ময়কর আবিষ্কার। বিদ্যুৎ দ্বারা পরিচালিত বেশ কিছু ইলেক্ট্রিক ডিভাইস।প্রাচীন যুগ থেকে শুরু করে মধ্য যুগ পেরিয়ে আধুনিক যুগের অসংখ্য বিজ্ঞানীদের অক্লান্ত পরিশ্রম এবং সাধনার ফসল আজকের এই আধুনিক প্রযুক্তি, যার নাম কম্পিউটার। এ নামটির সাথে কমবেশি সবাই পরিচিত। একজন দক্ষ প্রযুক্তিবিদ এই কম্পিউটার প্রযুক্তি ব্যবহার করে তথ্য বা উপাত্তকে প্রক্রিয়াজাত করণের মাধ্যমে কাঙ্খিত ফলাফল লাভসহ গবেষনা, তথ্য সংরক্ষণ ও সম্পাদনা করার আবাদ সুযোগ পেয়ে থাকেন।বর্তমান যুগটাই হচ্ছে কম্পিউটারের যুগ। কম্পিউটার পদ্ধতি নেই এমন কোন যন্ত্রের দেখা পাওয়া এখন খুবই মশিকিল। ঘরে-বাইরে, মহাকাশে, মহাসমুদ্রে, শিক্ষা-দিক্ষা, চিকিৎসা ইত্যাদি যেদিকেই তাকাই না কেন সেখানেই নজরে পড়বে এই কম্পিউটার প্রযুক্তির ব্যবহার। আমাদের চারপাশে যে সব বৈদ্যুতিক সামগ্রী ছড়িয়ে আছে সেগুলোও কম্পিউটার প্রযুক্তির সাথে জড়িত। আমার এ প্রবন্ধটি পাঠকের পড়ার যোগ্য বা পাঠ উপযোগি করতেও কম্পিউটার প্রযুক্তির ব্যবহার করতে হয়েছে। শুধু তাই নয় এটা পাঠ করতেও কম্পিউটার প্রযুক্তির ব্যবহার প্রয়োজন হয়েছে। ইলেকট্রনিকস খেলনা, ভিডিও গেম, টিভি, রেফরিজারেটর, ভিসিডি, সিডি ইত্যাদি যন্ত্রগুলো তৈরী ও মাননিয়ন্ত্রনে কম্পিউটার প্রযুক্তির ভুমিকা রয়েছে। অতএব কম্পিউটার প্রযুক্তি ছাড়া বর্তমান পৃথিবী কল্পনাও করা যায় না।

কম্পিউটার কি?

Comuterআমরা সবাই আধুনিক এবং উন্নত পৃথিবীর অধিবাসী। এই আধুনিক পৃখিবীকে আরও আধুনিক ও উত্তরোত্তর উন্নত করার জন্যে যে যন্ত্রটি সবচেয়ে বেশী অবদান রেখেছে তার নাম কম্পিউটার। এটি বিজ্ঞানের এক বিষ্ময়কর আবিষ্কার। কম্পিউটার সম্পর্কে জানাবার আগে অত্যন্ত ছোট্ট একটা উদাহরণ তুলে ধরছি।ক্যালকুলেটর নামের যন্ত্রটির সাথে আমরা সবাই কম বেশী পরিচিত এবং এর কাজও আমরা জানি। এটা যোগ, বিয়োগ, গুণ,ভাগ ইত্যাদি কাজ অনায়াশেই করে দিতে পারে। এ ধরণের একটা বড় আকারের ক্যালকুলেটর মেশিনই হচ্ছে আমাদের কম্পিউটার। তবে ক্যালকুলেটরের মতো শুধুমাত্র সংখ্যা আর অংক নিয়ে কাজ করে না আমাদের কম্পিউটার। অংক আর সংখ্যার সাথে সাথে তথ্য নিয়েও কাজ করতে পারে সে। ছোট্ট ক্যালকুলেটরের সাথে কম্পিউটারের সবচেয়ে বড় মিল এই যে ক্যালকুলেটরের মতো সংখ্যা আর অংকের মাধ্যমেই কম্পিউটার তার যাবতীয় কাজ সম্পন্ন করে থাকে।তবে কম্পিউটার ক্যালকুলেটরের চেয়ে অনেক বেশী জটিল কাজ অত্যন্ত দ্রুত গতিতে সম্পন্ন করতে পারে।big-yellow-aladdin-lamp--1
আরব্য উপন্যাসের সেই আলাদীন আর তার প্রদীপের উদাহরণ এখানে প্রযোজ্য। আলাদীনের প্রদীপের বিষ্ময়কর দৈত্য যেমন চোখের নিমিষে বড় বড় সব কঠিন কাজ করে ফেলতো। কম্পিউটার ঠিক তেমনি অনেকগুলো জটিল আর কঠিন কাজ নিমিষের মধ্যে করে ফেলতে সক্ষম।তবে এসব কাজ কিন্তু সে নিজের ইচ্ছায় করতে পারে না বা করে না। আলাদীনের দৈত্যকে যেমন আদেশ দিয়ে যাবতীয় কাজ করাতে হতো, কম্পিউটারও ঠিক তাই। তাকেও যে আদেশ বা নির্দেশ দেওয়া হবে, সে নির্দেশ মতো কাজ সম্পন্ন করে দেবে। নির্দেশের বাইরে সে কিছুই করবে না।

কম্পিউটারের কাজের বর্ণনাঃ

কম্পিউটার করতে পারে না এমন কোন কাজ বর্তমান আধুনিক বিশ্বে নেই।কম্পিউটার হচ্ছে সকল কাজের কাজী।কোটি কোটি টাকার বিল তৈরী, ব্যবসা সংক্রান্ত যাবতীয় জটিল হিসব নিকাশ, তথ্য গ্রহন করে সেই তথ্য প্রক্রিয়াজাতকরণের মধ্যমে উপযুক্ত ফলাফল প্রদান, তথ্য সংরক্ষণ, জটিল বৈজ্ঞানিক গবেষনা, জল,স্থল ও আকাশের যানবাহন নিয়ন্ত্রন করা ইত্যাদি।শিক্ষাক্ষেত্রসহ গৃহস্থলী কাজেও আজকাল কম্পিউটার ব্যবহৃত হচ্ছে।আরও কত কাজ যে কম্পিউটারকে দিয়ে করানো হয় তার কোন হিসেব নেই। কম্পিউটারের কাজের ফিরিস্তি কোন কাগজে লিখে তা প্রকাশ করতে গেলে সেই কাগজের ওজন হবে কয়েক মন।মঙ্গল গ্রহে সোজার্নার নামেরে একটি কম্পিউটার নিয়ন্ত্রিত রবোট অসম্ভব ধরণের সব তথ্য সংগ্রহ করে পৃথিবীতে পাঠিয়েছিল। তাকে নিয়ন্ত্রন করা হতো কিন্তু পৃথিবী থেকে কম্পিউটারের সাহায্যে।
আজ বিশ্বের অনেক উন্নত দেশে নিচু ক্লাশের ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়া শেখানো হচ্ছে কম্পিউটারের সাহায্যে।এমনকি বর্ণপরিচয়ের মত প্রাথমিক কিন্তু জটিল কাজগুলোও ছেলে-মেয়েরা শিখছে কম্পিউটারের সাহায্যে।অনেক বধির ও অন্ধ শিক্ষার্থীরা কম্পিউটার প্রযুক্তি ব্যবহার করে অনায়াসে শিখে নিচ্ছে তাদের প্রতিদিনের স্কুলের কাজগুলো।বর্তমান আধুনিক বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর বেশিরভাগ আধুনিক যানবাহন নিয়ন্ত্রন করা হয় কম্পিউটারের সাহায্যে। বিশেষকরে পাতাল রেল, সমুদ্রের অনেক নীচে দিয়ে চলাচলকারী জাহাজ অর্থাৎ সাবমেরিন, মহাকাশের দূর সীমানায় রকেট পাঠানো, কৃত্রিম উপগ্রহ নির্মাণ এবং সেটাকে মহাকাশে প্রেরণ, নতুন নতুন গ্রহ-নক্ষত্রের আবিষ্কার এবং সেগুলোতে মানুষবিহীন কম্পিউটার নিয়ন্ত্রিত যানবাহন পাঠানো, ঝড়-বৃষ্টি-ভূমিকম্প ইত্যাদি সম্পর্কে প্রাথমিক পূর্বাভাস, ইত্যাদি সব কাজ করছে কম্পিউটার।আধুনিক বিশ্বে আলোচিত বিষয় তথ্য আদান-প্রদান। এ ক্ষেত্রেও চমৎকার অবদান ও ভূমিকা রেখেছে কম্পিউটার।ইন্টারনেট নামের সাথে আমরা সবাই কমবেশী পরিচিত। এই ইন্টারনেট হচ্ছে এক কম্পিউটার থেকে আরেক কম্পিউটারে তথ্য আদান প্রদানের বিশেষ মাধ্যম।কম্পিউটারে যদি ইন্টারনেট সংযোগ থাকে তাহলে পৃথিবীর এক প্রান্তে বসে আরেক প্রান্তের কম্পিউটারের সথে তথ্য আদান প্রদান করা যায়। এ কাজটা অত্যন্ত দ্রুত গতিতে করে কম্পিউটার।
আধুনিক মুদ্রণশিল্পে কম্পিউটারের অবদান অপরিসীম। পূর্বের তুলনায় লোকবল কম লাগে, মুদ্রণের মান কয়েকগুন ভাল।এই প্রযুক্তিতে লেখা বা বাক্যগুলোকে কম্পিউটারের কীবোর্ডের সাহায্যে কম্পোজ করে, লেজার প্রিন্টারের সাহায্যে ট্রেসিং পেপারে প্রিন্ট করা হয়। সেই প্রিন্ট করা কাগজ বিশেষ পদ্ধতিতে তৈরী করা অফসেট প্রেসের প্লেট। এই প্লেট মেশিনে স্থাপন করে কাগজে প্রিন্ট বের হরা হয়। এছাড়া আধুনিক চলচিত্রতো কম্পিউটার ছাড়া কল্পনাই করা যায় না।যে কার্টুন ছবিগুলি অনেকেই দেখে থাকে বিশেষকরে বাচ্চাদের খুবই প্রিয় এগুলি। এই ছবি তৈরীর সবকাজই সম্পন্ন কারা হয় কম্পিউটার প্রযুক্তি ব্যবহার করে।এছাড়া চলচিত্রের বিশেষ কিছু ঝুকিপূর্ণ দৃশ্যের কাজও এই কম্পিটারের সাহায্যে করা হয়ে থাকে।বিশেষ করে পাহাড় থেকে লাফ দেওয়া, আকাশে বিমান যুদ্ধ, গভীর সমুদ্রে জাহাজ বা সাবমেরিন চালানোর মতো জটিল কাজগুলো মানুষ ব্যবহার না করে কম্পিউটার প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়ে থাকে। এসব বর্ণনা থেকে এটা স্পষ্ট যে, কম্পিউটার পারে না এমন কোন কাজ নেই। অথচ এসব কাজগুলো কম্পিউটার নিজের থেকে করতে পারে না। তাকে একাজগুলো করার নির্দেশ দেয় মানুষ, আর সেই নির্দেশ অনুযায়ী কম্পিউটার যাবতীয় কাজ সম্পাদন করে।

কম্পিউটারের কাজ করার পদ্ধতিঃ

CALCULETOR copyএকটি ক্যালকুলেটরের ২লেখা বোতাম চেপে তারপর গুণ(´)চিহ্ন বোতাম চাপ দিয়ে তারপর ৩লেখা বোতাম চাপ দিলে এবং ফলাফল জানার জন্য সমান(=)চিহ্ন দেওয়া বোতাম চাপ দিলে ক্যালকুলেটরের ছোট্ট পর্দায় ফলাফল নিশ্চয়ই ৬ আসবে। এই ফলাফল পাওয়ার জন্য পর্যায়ক্রমে সব কাজগুলো কিন্তু আমাদেরকেই করতে হয়েছে। অর্থাৎ ক্যালকুলেটরকে ২এর সাথে ৩গুণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ক্যালকুলেটর ঠিক তাইই করেছে। সে কিন্তু যোগ করে নাই। তা যদি করতো তাহলে ফলাফল নিশ্চয়ই ৫ হতো। অর্থাৎ ক্যালকুলেটর নির্দেশের বাইরে কোন কাজ করেনি। ক্যালকুলেটরের বোতাম টিপে যে কাজটি আমরা করলাম সেটা হলো তাকে তথ্য যোগান দেওয়া অর্থাৎ নির্দেশ দেওয়া। আর ক্যালকুলেটর যা করলো সেটা হলো আমাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে উপযুক্ত ফলাফল জানালো। এই ফলাফল দেখানোর জন্য ক্যালকুলেটরের নিজস্ব কোন ভূমিকা নেই। আগে থেকেই তার যন্ত্রের ভিতর ফলাফল সম্পর্কিত উপযুক্ত তথ্য দেয়া ছিল। সে শুধু আমাদের দেওয়া নির্দেশের সাথে আগে থেকে তার ভিতরে দেওয়া তথ্য মিলিয়ে নিয়ে সঠিক ও উপযুক্ত ফলটি তার পর্দায় দেখিয়েছে।
আমাদের কম্পিউটারও ঠিক একই রকম পদ্ধতি ও প্রক্রিয়ায় তার যাবতীয় কাজ সম্পন্ন করে।ক্যালকুলেটের বোতাম টিপে যেমন তাকে তথ্য দিয়ে নির্দেশ দিতে হয়েছে-কম্পিউটারকেও তেমনি তথ্য দিয়ে নির্দেশ দিতে হবে।অর্থাৎ তাকে জানাতে হবে তাকে দিয়ে কোন কাজটি করিয়ে নিতে চাই। আমাদের দেওয়া তথ্য ‍ও নির্দেশের উপর ভিত্তি করে সে উপযুক্ত ফলাফল দেখাবে।সে ফলাফলও কিন্তু ক্যালকুলেটরের মত আগে থেকেই কম্পিউটারে প্রবেশ করানো থাকে। সে শুধু আমাদের দেওয়া তথ্য ‍ও নির্দেশের সাথে তার ভিতরে দেওয়া তথ্যের সাথে মিলিয়ে দেখে নেয় ঠিক আছে কিনা। যদি ঠিক থাকে তাহলে উপযুক্ত ফলাফলটি আমাদের দেখাবে।
এসব থেকে কম্পিউটার সম্পর্কে একটা ব্যাখ্যা দাঁড় করানো যায় যে-কম্পিউটার হচ্ছে সেই ধরণের যন্ত্র যে আমাদের দেয়া তথ্য বা নির্দেশ অনুযায়ি নিমিষের মধ্যে উপযুক্ত ফলাফল দেখাতে পারে।

41skLxWQtyLকম্পিউটারে তথ্য বা নির্দেশ দেওয়াঃ

কম্পিউটার করতে পারে না এমন কোন কাজ নেই। জটিল হিসাব নিকাশ, তথ্য গ্রহন এবং সেই তথ্যের প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে উপযুক্ত ফল প্রদান, তথ্য সংরক্ষণ, জটিল বৈজ্ঞানিক গবেষনা, জল-স্থল ও আকাশের যানবাহন নিয়ন্ত্রণ ইত্যাদি কাজ ছাড়াও আরও অনেক জটিল জটিল কাজ করে থাকে। মনে রাখতে হবে, কম্পিউটার নিজ থেকে এর কোনটাই করে না। কম্পিউটারকে দিয়ে করিয়ে নিতে হয়। c05531510কম্পিউটারকে দিয়ে যে কাজটি করিয়ে নিতে চাই, ঠিক সেই কাজের জন্য সঠিক কমান্ড বা নির্দেশ কম্পিউটারকে আমাদের দিতে হবে।ক্যালকুলেটর মেশিনে কমান্ড দেওয়ার জন্য যেমন তার বোতাম টিপতে হয় তেমনি কম্পিউটারকে কমান্ড দেওয়ার জন্যেও আমাদেরকে এই ধরণের কিছু করতে হবে।অবশ্য কম্পিউটারকে কমান্ড দেওয়ার জন্য অনেক কিছুই আছে। তবে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য বা প্রধান হলো- কিবোর্ড এবং মাউস। কিবোর্ডের অক্ষর বা সংখ্যার বোতাম চাপ দিয়ে যেমন কম্পিউটারকে কমান্ড বা নির্দেশ দেওয়া যায়, ঠিক তেমনি মাউস দিয়েও কম্পিউটারকে কমান্ড দেওয়া যায়। তবে ভুলে গেলে চলবে না যে কম্পিউটারে কমান্ডের গুরুত্ব অপরিসীম।তাই বুঝে শুনে সঠিক কমান্ডটিই দিতে হবে।

কম্পিউটারে তথ্য বা নির্দেশের গুরুত্বঃ

imagesকম্পিউটার যেহেতু নিজে থেকে কিছু করে না, আমাদের কমান্ড বা নির্দেশের উপর ভিত্তি করে সে কাজ করে।সেহেতু আমাদের কমান্ড বা নির্দেশ হতে হবে সঠিক ও নির্ভুল। কোন ভূল কমান্ড দিলে কম্পিউটার হয়তো কাজ করবে না কিংবা কোন ভূল ফলাফল দেখাবে। কিংবা কমান্ড ভূল হয়েছে মর্মে সংলাপ বক্স হাজির হয়ে আমাদের জানাবে বা নোটিশ দেবে এই কমান্ড ভূল হলে কি ধরণের ঘটনা ঘটতে পারে বা বিড়ম্বনার সম্মুখীন হতে হবে তা ছোট্ট একটা উদাহরণের মাধ্যমে বোঝাবার চেষ্টা করছি।
ধরা যাক, আমাদের বাসায় অনেকদিন পর এক বাল্যবন্ধু হাজির হলো। তাকে যথাযথ আপ্যায়ন করতে হবে- কিন্তু ঘরে ভাল কোন খাবার নেই। বাসায় দু’জন কর্মচারী আছে। একজন মানব আর অন্যজন যন্ত্র মানব অর্থাৎ দ্বিতীয়জন রবোট কর্মচারী।এই দু’জনই বাসার সব কাজ করে থাকে। বন্ধুকে আপ্যায়নের জন্য বিশেষ কোন ব্রান্ডের খাবার আনতে পাশের বাজারে পাঠানো হলো।কিন্তু ওদের দু’জনের কাউকে বলা হলো না যে ঐ ব্রান্ডের খাবার না পাওয়া গেলে বাসায় ফিরে আসতে হবে কিংবা অন্য কোন ভাল ব্রান্ডের খাবার নিয়ে আসতে হবে। কিছুক্ষণ পর মানব কর্মচারী এসে জানালো বাজারে ঐ ব্রান্ডের কোন খাবার পাওয়া যাচ্ছে না। অন্য ভালো ব্রান্ডের খাবার পাওয়া যাচ্ছে সে সেটাই নিয়ে এসেছে। যন্ত্র মানব (রবোট) কর্মচারী কিন্তু ফিরে আসলো না।কারণ বেচারা ঐ নির্ধারিত ব্রান্ডের খাবার খুজে ফিরছে এক দোকান থেকে আর এক দোকানে।একসময় দেখা যাবে তার ভেতরকার শক্তি বা ব্যাটারী ফুরিয়ে গেছে এবং সে কাত হয়ে পড়ে আছে কোন রাস্তার পাশে।এতে কিন্তু তার কোন দোষ নেই কারণ সেতো কম্পিউটার নিয়ন্ত্রিত।তাকে যা নির্দেশ দেওয়া হবে সে তাই পালন করবে। তাকে যদি বলে দেওয়া হতো ঐ ব্রান্ডের খাবার না পেলে অন্য কোন ভাল ব্রান্ডে খাবার আনতে হবে অথবা বাসায় ফিরে আসতে হবে তবে সে তাইই করতো। এভাবে সঠিক নির্দেশ না দিতে পারলে আমাদের কম্পিউটারও ঐ একই রকম আচরণ করবে। এ উদাহরণ থেকে আমরা মানুষ এবং কম্পিউটারের মধ্যে বেশ কিছু পার্থক্য খুজে পাই।মানুষের নিজস্ব মেধা বা বুদ্ধি আছে যা কম্পিউটারের নেই। কম্পিউটারের কোন সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতাও নেই অথচ মানুষের তা আছে।কম্পিউটারের নিজস্ব কোন মেধা বা বুদ্ধি নেই, সে নিজ থেকে কিছুই করতে পারে না। কম্পিউটার একটি জড়পদার্থ, ইলেট্রিক ডিভাইস বা বৈদ্যুতিক যন্ত্র।পক্ষান্তরে মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব। মানুষ কম্পিউটারকে নিয়ন্ত্রন করতে পারে কিন্তু কম্পিউটার মানুষকে নিয়ন্ত্রন করতে পারে না।

No comments

Powered by Blogger.