Header Ads

আসছে ডাক বিভাগের মোবাইল ব্যাংকিং

Standard of service Post e-center
 

বিদ্যমান মোবাইল ব্যাংকিংয়ের কয়েকগুণ বেশি লেনদেনের সুযোগ নিয়ে বাংলাদেশ ডাক বিভাগ নিয়ে আসছে 'নগদ' নামে নতুন ডিজিটাল আর্থিক সেবা। সারাদেশে এজেন্ট নিয়োগের মাধ্যমে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় এ সেবা দেওয়া হবে। এখানে একজন গ্রাহক দিনে ১০ বারে আড়াই লাখ টাকা জমা এবং একই পরিমাণ টাকা উত্তোলন করতে পারবেন। বর্তমানে বিকাশ বা রকেটের একজন গ্রাহক দিনে দু'বারে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা উত্তোলন এবং ১৫ হাজার টাকা জমা করতে পারেন। বিদ্যমান মোবাইল ব্যাংকিংয়ের তুলনায় জমার ক্ষেত্রে ২৫ গুণ এবং উত্তোলনে ১৭ গুণ বেশি লেনদেনের সুযোগ পাবেন ডাক বিভাগের মোবাইল ব্যাংকিংয়ের গ্রাহকরা। নতুন সেবা চালুর জন্য এরই মধ্যে এজেন্ট নিয়োগের কাজ শুরু হয়েছে।

জানা গেছে, গত আগস্ট মাসে 'নগদ' সেবা চালুর অনুমোদন চেয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকে আবেদন করে ডাক বিভাগ। আবেদন নাকচ করে সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, ব্যাংক কোম্পানি আইনের আওতায় মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস পরিচালনার অনুমোদন দেওয়া হয়। এসব প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রক বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে ডাক বিভাগ পরিচালিত হয় নিজস্ব আইনের (পোস্টাল অ্যাক্ট) আওতায়। যে কারণে তাদের আবেদন নাকচ করা হয়। এরপর নিজেদের মতো করে সেবাটি চালু করতে যাচ্ছে ডাক বিভাগ। এরই মধ্যে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে এ সেবা চালুর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। মুনাফা ভাগাভাগির ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠানটি সারাদেশে এজেন্ট নিয়োগের মাধ্যমে সেবা দেবে।

বিদ্যমান মোবাইল ব্যাংকিংয়ের কয়েকগুণ লেনদেন এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এ ধরনের সেবা চালুর উদ্যোগ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এ খাতের সংশ্নিষ্টরা। মোবাইল ব্যাংকিং সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর এ নিয়ে অস্বস্তি রয়েছে। একাধিক কর্মকর্তা সমকালকে বলেন, কোন নীতিমালার আলোকে এ সেবা পরিচালিত হবে তা স্পষ্ট নয়। এ ছাড়া বিদ্যমান মোবাইল ব্যাংকিয়ের লেনদেন সীমার কয়েকগুণ বেশি লেনদেনের সুযোগের ফলে এক ধরনের অসমতা তৈরি হবে। মানি লন্ডারিং ও অপরাধমূলক লেনদেনের ঝুঁকি অনেকাংশে বাড়বে।

জানতে চাইলে ডাক বিভাগের মহাপরিচালক সুশান্ত কুমার মণ্ডল সমকালকে বলেন, 'নগদ' ডাক বিভাগের একটি প্রোডাক্ট। এটা বিকাশ, রকেটের মতোই একটি সেবা। পোস্ট অফিস সকাল ৯টা থেকে ৫টা পর্যন্ত খোলা থাকে। আবার সরকারি ছুটির দিন বন্ধ থাকে। এ কারণে সার্বক্ষণিক সেবা দেওয়ার লক্ষ্যে মুনাফা ভাগাভাগির ভিত্তিতে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

২০১৭ সালের জানুয়ারিতে লেনদেন সীমা কমিয়ে জারি করা বাংলাদেশ ব্যাংকের এক নির্দেশনায় বলা হয়, মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস অতি অল্প সময়ে সমাজের বিভিন্ন স্তরের, বিশেষত নিম্ন আয়ের জনগোষ্ঠীর মধ্যে বিপুল জনপ্রিয়তা পেয়েছে। তবে কিছু অসাধু ব্যক্তি এ সেবার অপব্যবহার করছে, যা দেশ ও জাতির জন্য ক্ষতিকর। এ পরিপ্রেক্ষিতে অপব্যবহার রোধ এবং যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে লেনদেন সীমা কমানো হলো।

বিদ্যমান নিয়মে একটি মোবাইল ব্যাংকিং হিসাবে দিনে সর্বোচ্চ দু'বারে ১৫ হাজার এবং মাসে ২০ বারে এক লাখ টাকা ক্যাশ-ইন বা জমা দেওয়া যায়। তবে ডাক বিভাগের সেবার আওতায় একজন গ্রাহক দিনে ১০ বারে আড়াই লাখ টাকা এবং মাসে ৫০ বারে ৫ লাখ টাকা ক্যাশ-ইন করতে পারবেন। এ ছাড়া বিদ্যমান নিয়মে দু'বারে ১০ হাজার এবং মাসে সর্বোচ্চ ১০ বারে ৫০ হাজার টাকা টাকা ক্যাশ-আউট তথা উত্তোলন করা যায়। আর ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি হিসাবে দিনে ১০ হাজার এবং মাসে ২৫ হাজার টাকা স্থানান্তর করা যায়। ডাক বিভাগের সেবা ব্যবহার করে দিনে ৫০ বারে আড়াই লাখ টাকা এবং মাসে ১৫০ বারে ৫ লাখ টাকা স্থানান্তর করা যাবে। 
সূত্র: সমকাল